শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল), ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী |আর্কাইভ|
সব স্বর্ণমানবদের জন্য অপেক্ষা করছি
মে ১৩, ২০২০
সব স্বর্ণমানবদের জন্য অপেক্ষা করছি

‘এই মুহূর্তে যাঁরা করোনা প্রতিরোধের জন্য ওষুধ তৈরি করছেন, সেই স্বর্ণমানবদের জন্য অপেক্ষা করছি। তাকিয়ে আছি, এসব বিশেষজ্ঞ মানুষ হয়তো অচিরেই একটি সুখের খবর দেবেন। ঘুম থেকে উঠে একদিন শুনব ভ্যাকসিন বা মেডিসিন আবিষ্কার হয়ে গেছে। সেই আশায় ঘুমাতে যাই, সেই আশায় দিন গুনছি’—এ কথাগুলো বললেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী রোজী সিদ্দিকী।

গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে সর্বশেষ ‘মান অভিমান’ নামে একটি নাটকের শুটিং শেষ করেই হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন এ অভিনেত্রী। বাসায় মেয়েদের নিয়ে চিন্তায় বেশির ভাগ সময় কাটছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েদের নিয়ে ভাবছি। বড় মেয়ে দেশে থাকে, তার সঙ্গেও কথা হচ্ছে কিন্তু দেখা হচ্ছে না। সে আবার ব্যাংকে চাকরি। তাকে একা একা অফিসে যেতে হয়। ব্যাংক থেকে কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা করে নেই। আমার ছোট মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। সে সেখানে একা একা আছে। তাকে নিয়েও সব সময় দুশ্চিন্তা হচ্ছে। তার কাছে আমাদের যাওয়ার কথা ছিল। করোনায় সব বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে খুবই আতঙ্কে দিন যাচ্ছে আমাদের।’

রোজী সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীতরোজী সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীতপ্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি দুই মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন। ছোট মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় একা থাকায় তাকেও মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেন। মনোবল বাড়াতে শক্তি জোগানোর চেষ্টা করেন। কীভাবে মনোবল বাড়াচ্ছেন, জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘যত সময় ফোনে কথা বলি সারাক্ষণ হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করি। একটুও যেন ভেঙে না পড়ে। যেহেতু ও দেশের বাইরে একা আছে। ও যেন বোর না হয়, সে জন্য সেলিম (শহীদুজ্জামান সেলিম) ওকে হাসানোর চেষ্টা করে। গল্প করে, বই নিয়ে আলোচনা করে। সিনেমা নিয়ে বাপ–মেয়ের কথা হয়। ওর ছোটবেলা নিয়ে কথা বলি।’

করোনায় কীভাবে বাসায় সময় কাটছে, জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সময়টা চলে যাচ্ছে, কিন্তু কোথাও যেন স্বস্তির অভাবটা রয়ে গেছে। স্বাভাবিক জীবন যখন ছিল, তখন শুটিং করতাম, বাসায় থাকা হতো না। তখন বাসায় থাকা জন্য অস্থির লাগত। মনে হতো অবসর পেলেই বই পড়ব, সিনেমা দেখব, বাসায় অনেক কাজ জমে গেছে, সেগুলো করব। সেসব কাজই করছি কিন্তু শান্তির নিশ্বাসটা নিতে পারছি না। মনে হচ্ছে আমাকে খাঁচার মধ্যে রেখে প্রচুর কাজ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বন্দী থেকে কাজগুলো করতে হবে।’

পরিবারের সঙ্গে রোজী সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত।পরিবারের সঙ্গে রোজী সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত।নিজেরা কতটা সচেতন, জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘ঘরের সবকিছু স্যানিটাইজ করছি। বাজার যাই আনা হোক না কেন, সেটাও সেনিটাইজ করছি,লবণপানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করছি। নির্ধারিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছি। যেটা না খেলেই নয়। কারণ, শারীরিক কোনো ব্যায়াম করছি না।’

করোনার এই সময়েও দেশের একশ্রেণির মানুষ সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে, তেমনি কিছু অসাধু মানুষ গরিবদের খাদ্যদ্রব্য চুরি করছে। এ বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তিত তিনি। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘কিছু লোক অভাবে আছে, অনেকেই অতিরিক্ত খাদ্যাভাবে আছেন। সেটা মানতে খুবই কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষ অনেকের সাহায্যে এগিয়ে আসছে। শিল্পী সমিতি থেকেও আমরা এগিয়ে আসছি। আবার সরকার সর্বসাধারণের জন্য সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। সেখানে সরকারি অনেক লোকেরাই চুরি করছে। এই মুহূর্তে কিছু সরকারি লোকের এই চুরির কথা ভাবতেই ঘৃণা লাগে। এটা এই মুহূর্তে মানা খুবই কষ্টকর। ভাবতেই পারছি না মানুষ এই দুর্দিনে এত নীতিহীন কী করে হয়।