মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল), ২রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী |আর্কাইভ|
রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কী করবেন?
মে ১৩, ২০২০
রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কী করবেন?

রোজা অবস্থায় মানুষের স্বপ্নদোষ হলে করণীয় কী তা জানতে অনেকেই লজ্জাবোধ করেন। এ অবস্থায় রোজা ভেঙে গেছে মনে করে অনেকেই দিনের বেলায় পানাহার করে থাকে। আসলে এ বিষয়টি জেনে নেয়া লজ্জার কোনো বিষয় নয়।

হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, তিনটি বস্তু রোজা ভঙ্গের কারণ নয়-
০১. বমি;
০২. শিঙ্গা লাগানো ও
০৩. স্বপ্নদোষ। (মুসনাদে বাযযার, মাজমাউয যাওয়ায়েদ তিরমিজি, বাইহাকি)

সুতরাং রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙে যায় ভেবে পানাহার করা ঠিক নয়। বরং রোজা পালন করে তা পরিপূর্ণ করা।

রোজা থাকা অবস্থায় দুপুরে ঘুমানো নিষেধ নয়। এর কারণে রোজা ভাঙে না। এমনকি ঘুমের ভেতরে স্বপ্নদোষ হলে স্বপ্নদোষের কারণেও রোজা ভাঙে না। হাদিসে আছে, আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনটি জিনিস রোজা ভঙ্গের কারণ নয়- বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৪/২৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৬)

তবে স্বপ্নদোষের কারণে গোসল ফরজ হয়। উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রাযি. বলেন, আবু তালহা রাযি.-এর স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা সত্যের বিষয়ে নিঃসঙ্কোচ। (তো আমার জিজ্ঞাসা এই যে,) কোনো নারীর স্বপ্নদোষ হলে কি তার উপর গোসল ফরয হয়?’

উত্তরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ। যদি সে পানি (ভেজা) দেখতে পায়।’ (সহীহ বুখারী ১/৪২)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়- ১. ছেলেদের মত মেয়েদেরও স্বপ্নদোষ হয়। ২. স্বপ্নদোষ হলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের গোসল করা ফরজ হয়।