শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল), ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী |আর্কাইভ|
শত্রুর ছোড়া বোমার খোসায় ফুল ফোটাচ্ছেন ফিলিস্তিনি নারী
মে ১৪, ২০২০
শত্রুর ছোড়া বোমার খোসায় ফুল ফোটাচ্ছেন ফিলিস্তিনি নারী

প্রতিদিনই আতঙ্কে থাকেন কখন গ্রেনেড হামলা কখনো মর্টার শেল, তারপর শুরু গোলাগুলি। এ শহরে জীবনের কোন মূল্য নেই। কখন যে জীবন চলে যাবে বোমার আঘাতে জানে না কেউ। বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতে যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ছুড়ে মারা বোমার আঘাতে প্রাণ হারান বহু ফিলিস্তিনি নর-নারী-শিশু। তখন করুণার প্রতীক হয়ে সেসব বোমার খোসা সংগ্রহ করে তাতে ফুল চাষ করছেন ফিলিস্তিনি এক নারী। মহিয়সী এই নারীর নাম নূর-ই-ফাতিমা কাওমী। তিনি ফিলিস্তিনের রাজধানী রামাল্লাহর খুব কাছেই বসবাস করেন। বাড়ির পাশেই তিনি গড়ে তুলেছেন এই ব্যতিক্রমী বাগান। একটু একটু করে বাগানটি অনেক বড় হয়েছে। বিশ্ববাসীরও চোখে পড়েছে তাতে। প্রতিবাদ যে ফুল দিয়েও হয়, সেটা নতুন নয়। তবে শত্রুর বারুদে ফুল ফুটিয়ে প্রতিবাদ বোধ হয় এটিই প্রথম!

ঘুম থেকে উঠে ফাতিমা কাওমীর প্রথম কাজই হচ্ছে শত শত গ্রেনেড, মর্টার শেল, বুলেটের খোসা কুঁড়ানো। তারপর সেগুলো তিনি অতি যত্নে পরিষ্কার করেন। রোদে শুকিয়ে এরপর সেগুলোর ভেতর ফুলের বীজ রোপন করেন। এখানেই তার কাজ শেষ নয়। তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে পানি দেন, একটু একটু করে চারাগুলোকে বড় করেন।

মরুভূমির তপ্ত বালিতে গ্রেনেডের খোসায় ফুল ফোটাতে নূর-ই-ফাতিমা কাওমীকে একটা লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়। এর মধ্যে অন্যান্য প্রতিকূলতা তো রয়েছেই! তবে মহিয়সী এই নারী যেভাবেই হোক, গাছগুলোকে রক্ষা করেন। তারপর একসময় তার গাছগুলো ভরে ওঠে স্বর্গীয় ফুলে ফুলে।

পৃথিবীতে যে মরণাস্ত্রগুলো তৈরিই হয়েছে মানুষের অস্তিত্ব বিনাশের জন্য; সেখানেও নূর-ই-ফাতিমারা প্রচণ্ড ভালোবাসা আর গভীর আবেগ দিয়ে ফুল ফোটান। তিনি বিশ্বাস করেন, এই যে পৃথিবীতে এতো রঙ, এতো বর্ণের মানুষ; এটাই পৃথিবীর আসল সৌন্দর্য।